দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসহাক দার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে এখন মাত্র কয়েকটি বিষয়েই সমঝোতা বাকি রয়েছে।
শুক্রবার তুরস্কের Antalya Diplomacy Forum এ অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
ইসহাক দার বলেন, দক্ষিণ এশিয়া বিশাল সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল হলেও বাস্তব চিত্র এখনো আশানুরূপ নয়। প্রায় ২০০ কোটি মানুষের এই অঞ্চলের মোট জিডিপি মাত্র ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তিনি হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের কারণে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য ও অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই সংঘাত নিরসনে শুরু থেকেই পাকিস্তান ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রসঙ্গে দার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এখনো শক্তিশালী আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়ানো সময়ের দাবি।
তিনি দাবি করেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের জন্য পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।