অনুমতি ছাড়া কারও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে। নতুন আইনের আওতায় এসব অপরাধ দ্রুত তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে সরকার।
জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নতুন সাইবার আইন অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে, যাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিচার পান।
সরকারের মতে, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনেকেই ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে, যা উদ্বেগজনক।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, কাউকে হুমকি দেওয়া, ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া বা যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে কনটেন্ট প্রচার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বিশেষ করে ভুক্তভোগী যদি নারী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তাহলে শাস্তির মাত্রা আরও কঠোর হবে। এছাড়া ভিডিও দেখিয়ে অর্থ দাবি করলে সেটি সাইবার প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সে অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে।
সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণ করা যাবে।
একই সঙ্গে অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। রিয়েল-টাইমে ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করতে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং অনলাইন অপব্যবহার কমাতে সহায়ক হবে।