টেলিযোগাযোগ খাতে বিদ্যমান বিতর্ক ও অংশীজনদের আপত্তির মুখে ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নীতিমালাটি পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই সংশোধিত রূপ চূড়ান্ত করা হবে।
গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর প্রণীত এই নীতিমালায় টেলিকম খাতের সব লাইসেন্সকে তিনটি স্তরে নামিয়ে আনা হয়। তবে শুরু থেকেই এটি নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক তৈরি হয়।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নীতিমালায় ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব স্তরে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে মোবাইল অপারেটররা চাইলে টাওয়ার ও ফাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ও যুক্ত হতে পারে।
অন্যদিকে দেশীয় টাওয়ার ও এনটিটিএন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবমেরিন ক্যাবল বা আন্তর্জাতিক পরিষেবায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় অসম প্রতিযোগিতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে টেলিকম খাতের প্রায় ৮০ শতাংশ রাজস্ব মোবাইল অপারেটরদের হাতে। নতুন নীতিমালার ফলে বাকি ২০ শতাংশ রাজস্বে নির্ভরশীল ছোট ব্রডব্যান্ড ও অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেই সতর্ক করেছিলেন। তার মতে, একতরফা নীতি বড় কোম্পানিগুলোর আধিপত্য বাড়িয়ে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও নীতিমালার কিছু ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ফাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো ব্যবসায় স্পষ্ট নীতিমালা না থাকলে বড় অপারেটরদের প্রভাব আরও বাড়বে।
মন্ত্রী জানান, সংশোধনের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা হবে। পাশাপাশি খাতের প্রতিযোগিতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।