মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের উপকূলীয় এলাকায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরে সেটি সাগরে ডুবে যায় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
বুধবার গভীর রাতে সংঘটিত এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা UK Maritime Trade Operations (UKMTO)।
সংস্থাটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি শক্তিশালী ড্রোন জাহাজটিতে আঘাত হানার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে ট্যাংকারটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই জাহাজটি ডুবে যায়।
জাহাজটিতে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্রু সদস্যদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই তেল ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে দুর্ঘটনার পর জাহাজে থাকা সব ক্রু সদস্যকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার দায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও প্রাথমিক আলামতের ভিত্তিতে অনেক বিশ্লেষক ইরানের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরাইলকে নতুন করে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ISNA এক সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো চেষ্টা হলে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার এই হুমকি নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে এমন পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলা অব্যাহত থাকলে তা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।