আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ঠেকাতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ মনিটরিং সেল।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি জানান, সারাদেশের পরীক্ষা পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সমন্বয়ে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। থানা থেকে যারা প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে কি না তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ সংশোধনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং এতে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে সংশোধিত খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মানবিক নম্বর’ দেওয়ার গুজব নাকচ করে তিনি বলেন, এর কোনো ভিত্তি নেই। পরীক্ষকদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে খাতা মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া অনিবন্ধিত কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সুস্থ ও স্বাভাবিক মানসিকতা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। স্বচ্ছ ও মানসম্মত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।