আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। যোগাযোগ, কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন সবকিছুতেই নির্ভরতা বাড়লেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষক ও বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকার অভ্যাস শরীর ও মস্তিষ্কে ধীরে ধীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করে। এতে শরীরের ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
কিছু গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও শেখার সক্ষমতার ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের কারণে শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরও কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ডিজিটাল আসক্তি হরমোনের ভারসাম্য ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা এক ধরনের অভ্যাসগত আসক্তিতে পরিণত হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। যেমন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলা। নিয়মিত এসব অভ্যাস মেনে চললে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।