পুলিশ বাহিনীতে উপপরিদর্শক পদে বড় পরিসরে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগকে ঘিরে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সহকারী উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলদের মধ্যে পদোন্নতির সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রায় চার হাজার এসআই সরাসরি নিয়োগের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শেষে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী এসআই পদের অর্ধেক শূন্যপদ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি অংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে।
এই কাঠামোতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, সরাসরি নিয়োগ বাড়লে শূন্যপদ কমে যাবে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা সদস্যরা পিছিয়ে পড়বেন।
এএসআই ও কনস্টেবলদের ভাষ্য, পদোন্নতির ধারা ব্যাহত হলে তা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ছাড়াও বাহিনীর মনোবল ও কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ধাপগুলো আটকে গেলে নিচের স্তরের সদস্যদের জন্য অগ্রগতির পথ আরও সংকুচিত হবে।
অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মতে, বাহিনীর প্রয়োজন বিবেচনায় সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, তবে সেটি পরিকল্পিতভাবে করতে হবে। পদোন্নতির সুযোগ অক্ষুণ্ণ রেখে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত পদোন্নতি কার্যক্রম চালু রাখার কথাও বলা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা চান, নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের স্বার্থ ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হোক।
বর্তমানে বিপুল সংখ্যক এএসআই ও কনস্টেবল পদে কর্মরত সদস্যরা পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। সীমিত শূন্যপদের কারণে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পাচ্ছেন না। এই বাস্তবতায় সরাসরি নিয়োগের নতুন উদ্যোগ তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।