গুরুতর অসুস্থতায় জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে আছেন আফগানিস্তানের সাবেক বাঁহাতি পেসার শাপুর জাদরান। বিরল ও প্রাণঘাতী রোগ হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টোসাইটোসিস (HLH)-এ আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তিনি নয়া দিল্লির একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শাপুরের শরীরে রোগটি ইতোমধ্যেই চতুর্থ ধাপে পৌঁছে গেছে। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা গেলেও সংক্রমণ বা ক্যানসারের জটিলতার কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এটি হতে পারে। এই অবস্থায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হয়ে পড়ে এবং অস্থিমজ্জা, লিভার, প্লীহা ও লিম্ফ নোডসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গত বছরের অক্টোবর থেকেই অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করেন ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের হয়ে ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা শাপুর জাদরান (৪৪ ওয়ানডে ও ৩৬ টি-টোয়েন্টি)। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নেওয়া হয়।
তার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন আফগান ক্রিকেটার রশিদ খান এবং আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মিরওয়াইস আশরাফ। তাদের উদ্যোগে দ্রুত ভিসা পাওয়া সম্ভব হয় এবং গত ১৮ জানুয়ারি তিনি দিল্লিতে পৌঁছে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও সাবেক সতীর্থ আসগর আফগান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুরুতে তার শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা পরবর্তীতে টিবিতে রূপ নিয়ে মস্তিষ্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। কিছুটা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেলেও পরবর্তীতে একাধিকবার সংক্রমণ ও শারীরিক জটিলতায় আবারও তাকে ভর্তি হতে হয়। পরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
রমজান মাসে বোন ম্যারো পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি HLH রোগের চতুর্থ ধাপে রয়েছেন।
এই কঠিন সময়ে আফগান ক্রিকেট মহল তার পাশে রয়েছে। নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন রশিদ খান, জাতীয় দলের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদীসহ অনেক সতীর্থ। সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন তরুণ স্পিনার এএম গজনফার।
বর্তমানে শাপুর খুবই দুর্বল অবস্থায় আছেন। তিনি খুব কম কথা বলেন এবং অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে থাকেন। অসুস্থতার কারণে তার ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে। তবে চিকিৎসকেরা স্টেরয়েডসহ বিভিন্ন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে কিছুটা হলেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।