বলিউডের নব্বইয়ের দশকে সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দীক্ষিতের কথিত প্রেম নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। ১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া সুপারহিট সিনেমা ‘সাজন’-এ একসঙ্গে অভিনয়ের পর থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দুই তারকাই কখনো প্রকাশ্যে সেই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি।
তিন দশকেরও বেশি সময় পর ‘সাজন’ ছবির পরিচালক লরেন্স ডি’সুজা সেই সময়ের কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শুটিং চলাকালে সঞ্জয় দত্তকে মাধুরী দীক্ষিতের প্রতি বেশ মনোযোগী মনে হতো। এমনকি মাধুরীর ক্লোজআপ দৃশ্য ধারণের সময়ও সঞ্জয়কে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা যেত।
তবে পরিচালক স্পষ্ট করেছেন, সেটে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কেউ বিশেষ মাথা ঘামাতেন না। কারণ পুরো ইউনিটই কাজ এবং আনন্দময় পরিবেশে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে এসব বিষয় নিয়ে আলাদা আলোচনা করার সুযোগ খুব কম ছিল।
‘সাজন’ ছবিতে সঞ্জয় দত্ত, মাধুরী দীক্ষিত ও সালমান খান প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রেম, বন্ধুত্ব ও আত্মত্যাগের গল্পে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তির পর ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করে। ছবির গান এবং তিন তারকার অভিনয় দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেয়।
বিশেষ করে সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দীক্ষিতের অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকের ধারণা, সেই রসায়ন থেকেই বাস্তব জীবনে তাদের ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জনের সূত্রপাত। সে সময় বিভিন্ন চলচ্চিত্র সাময়িকী ও বিনোদনমাধ্যমে এই সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা প্রকাশিত হয়েছিল।
সম্প্রতি এক আলোচনায় লরেন্স ডি’সুজা জানান, তিনি কখনো তাদের সম্পর্ক নিয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেননি। তার স্মৃতিতে শুধু এটুকুই রয়েছে যে সঞ্জয় মাধুরীর দৃশ্যগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখতেন। এর বাইরে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি কোনো দাবি করেননি।
নব্বইয়ের দশকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না থাকলেও তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল ব্যাপক। ফলে সামান্য কোনো ইঙ্গিতও দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসত। সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দীক্ষিতের ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই হয়েছিল।
পরে সঞ্জয় দত্তের ব্যক্তিগত জীবন ও আইনি জটিলতার কারণে পরিস্থিতি বদলে যায়। অন্যদিকে মাধুরী নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এগিয়ে যান। তবে তাদের সম্পর্কের প্রকৃত সত্য কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
তাই ‘সাজন’ যুগের সেই প্রেমের গুঞ্জন আজও বলিউডের অন্যতম আলোচিত রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে। আর পরিচালক লরেন্স ডি’সুজার সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরোনো আলোচনাকে আবারও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।