দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রবিবার সকালে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু জ্বালানির সংকটে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপের মুখে রয়েছে।
তিনি জানান, সরকার এখন অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং পুনরুদ্ধারের জন্য কঠিন সময় পার করছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট দেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে, যার ফলে সরকারি অর্থব্যবস্থায় ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
ঋণ ব্যবস্থাপনাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যয়ের দিকটি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। অর্থ সংগ্রহের খরচও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতির বেশিরভাগ সূচক নিম্নমুখী ছিল। তাই এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সংকট শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ নয়, বরং বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।
তিনি বলেন, সরকার চেষ্টা করছে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই চাপ ধরে রাখা সম্ভব না হলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। তাই বাস্তবতার আলোকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।