নীলফামারীর ডোমারে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক পুলিশ সদস্যকে আটক করার ঘটনা ঘটেছে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে ডোমার উপজেলার হুজুরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আতিকুর রহমান নামের ওই পুলিশ সদস্য গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তারা তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে রাতের দিকে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত আতিকুর এর আগে ডোমার থানায় কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে নীলফামারী পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সেই সুবাদে বাড়িতে যাতায়াতের সময় গৃহবধূর সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়। পারিবারিক নানা বিষয়ে আলোচনা করতে করতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
প্রায় চার মাস আগে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে যাওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এরপর থেকে গৃহবধূ তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর তাকে শ্বশুরবাড়িতে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সেখানে উপস্থিত হয়ে আতিকুর তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরিবারের সদস্যরা তাকে আটক করেন।
ওই নারী জানান, পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি আতিকুরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তবে তার সংসার ভেঙে গেলে এর দায় অভিযুক্তকেই নিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বলেন, পরিচয়ের সূত্র ধরেই তিনি ওই পরিবারের খোঁজখবর নিতেন। গৃহবধূর দাম্পত্য সমস্যা থাকায় তিনি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দায়িত্বে অনুপস্থিত ছিলেন ওই সদস্য। পরে তিনি পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন।