মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে দেশের প্লাস্টিক শিল্পে। জ্বালানি তেল ও পলিমার রেজিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে কাঁচামালের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ছোট-বড় হাজারো উদ্যোক্তা চাপে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্লাস্টিক পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত পিভিসি, পিপিআর ও এইচডিপিই রেজিনের বড় অংশ আসে Saudi Arabia, United Arab Emirates এবং Iran থেকে। এছাড়া তুরস্কসহ অন্যান্য দেশ থেকেও কিছু কাঁচামাল আমদানি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্লাস্টিক ও জিআই ফিটিংস শিল্পের বাজার কয়েক হাজার কোটি টাকার। নির্মাণ, পানি সরবরাহ, কৃষি ও গার্মেন্টস খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীলতা রয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও জড়িয়ে আছে এই খাতের সঙ্গে।
আমদানিকারকদের দাবি, আগে যেখানে কয়েক সপ্তাহে কাঁচামাল দেশে পৌঁছাত, এখন সময় লাগছে প্রায় দ্বিগুণ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
ব্যবসায়ীরা জানান, যুদ্ধের আগে প্রতি টন প্লাস্টিকের কাঁচামালের দাম ছিল তুলনামূলক কম, কিন্তু বর্তমানে তা অনেক বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
রাজধানীর কেরানীগঞ্জে একটি কারখানার মালিক KM Iqbal Hossain জানান, কাঁচামালের দাম এতটাই বেড়েছে যে উৎপাদন চালিয়ে গেলে লোকসান গুনতে হবে। তাই সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ASM Kamal Uddin নামের আরেক উদ্যোক্তা অভিযোগ করেন, আমদানি প্রক্রিয়া ও শুল্ক কাঠামোর কারণে ব্যবসায়িক খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে, যা শিল্পকে চাপে ফেলছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজারে প্লাস্টিক পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।