পিরোজপুরের জিয়ানগরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় একজনকে জরিমানা ও কারাদণ্ড এবং অপরজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী চৌরাস্তা এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন পাবনা সদর উপজেলার চক পৈলানপুর গ্রামের শমসের আলীর ছেলে এম এ আকবর (৩৭) এবং জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী গ্রামের ভুবন চন্দ্র শীলের ছেলে রতন কুমার শীল (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে ভাড়া করা চেম্বারে রোগীদের ভুল চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় এবং অনুমোদনহীন ওষুধ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযানে আরও জানা যায়, তারা টিউমার, ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্ব ও হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের চিকিৎসার নামে প্রতারণা করতেন। পাশাপাশি ‘ঢাকা হোমিও ক্লিনিক’ নাম ব্যবহার করে ‘কোয়ান্টাম রেজোন্যান্স ম্যাগনেটিক অ্যানালাইজার’ ডিভাইসের মাধ্যমে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে রোগীদের বিভ্রান্ত করতেন।
এছাড়া রতন কুমার শীলের বিরুদ্ধে গ্রিন কার্ড সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। তারা কোনো স্বীকৃত চিকিৎসক নন এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন।
আদালতে দোষ স্বীকার করায় এম এ আকবরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং রতন কুমার শীলকে ৯০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।