বিশ্বকাপের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার। তার দ্রুত সুস্থতার লক্ষ্যে এবার ব্যবহার করা হচ্ছে নাসার প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত বিশেষ এক অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিল, যা তার বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এসপোর্তের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডান পায়ের কাফ ইনজুরি থেকে দ্রুত সেরে উঠতে এই আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন Neymar। শনিবার বিশেষ এই যন্ত্রে অনুশীলনও করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিলের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি শরীরের ওজনের একটি অংশ কমিয়ে দেয়। ফলে ইনজুরিগ্রস্ত স্থানে কম চাপ পড়ে এবং খেলোয়াড়রা তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে দৌড়ানো বা পুনর্বাসন অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াবিদদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইতোমধ্যে ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি ক্লাবও নিজেদের মেডিক্যাল অবকাঠামোয় এই বিশেষ ট্রেডমিল যুক্ত করেছে।
নেইমারের বর্তমান শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ মূল্যায়নের জন্য সোমবার নতুন করে ইমেজিং পরীক্ষা করা হবে। সেই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই তার পুনর্বাসনের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করবে ব্রাজিল দলের মেডিক্যাল টিম।
যদি পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হয়, তাহলে তিনি দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ শারীরিক অনুশীলনে ফিরতে পারবেন। এরপর ধাপে ধাপে বল নিয়ে অনুশীলনের অনুমতিও দেওয়া হতে পারে, যদিও সেটি নির্ভর করবে তার সুস্থতার অগ্রগতির ওপর।
ব্রাজিলের প্রধান কোচ Carlo Ancelotti আগেই জানিয়েছেন, নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তারা আশাবাদী। যদিও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়, তবুও সেলেসাও শিবির বিশ্বাস করে যে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকা সময়মতো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরতে পারবেন।
আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ব্রাজিল। তাই নেইমারের ফিটনেস নিয়ে এখন শুধু ব্রাজিল নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর রয়েছে দলের মেডিক্যাল রিপোর্টের দিকে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।