দিল্লিতে শুরু হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এই বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, পুশইন, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া এই সম্মেলন চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নিয়েছে। প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দলে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, পুশইন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচার, ভারতীয় চোরাকারবারিদের তৎপরতা, সীমান্তবর্তী এলাকায় অননুমোদিত স্থাপনা নির্মাণ এবং ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থানরত পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম।
বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান এবার আরও জোরালো। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা আলোচনায় তুলে ধরা হচ্ছে।
পুশইন প্রসঙ্গেও উদ্বেগ জানাবে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত বছরের জুলাইয়ের পর থেকে প্রায় তিন হাজার ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া সীমান্তপথে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, বিশেষ করে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্যের প্রবেশ রোধে যৌথ উদ্যোগের বিষয়েও আলোচনা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ উত্থাপন করা হবে বলেও জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পুশইনসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয় বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়েও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের সীমান্ত কর্তৃপক্ষ নির্দেশিকার আওতায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বছরে দুইবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ সম্মেলন গত বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।