দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং শতাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। পরিস্থিতির চাপে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, দেখা দিচ্ছে শয্যা সংকট।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রভাবেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে নতুনভাবে দরপত্র প্রক্রিয়া চালু করা হয়। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিলম্ব ও জটিলতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে নতুন পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য টিকার ঘাটতি দেখা দেয়, যা হামের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বছরের শুরুতে সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে অধিকাংশ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার ঘাটতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাও এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরামর্শ দিয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে আবারও পূর্বের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ শুরু করেছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিশুদের জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান গতিতে টিকাদান কার্যক্রম চালালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।