আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি Diego Maradona-এর মৃত্যুকে ঘিরে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা এই ঘটনার রহস্য আরও জটিল করে তুলছে।
বুয়েনোস আইরেসের একটি আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ Carlos Diaz দাবি করেন, ম্যারাডোনা বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও নার্সিসিজমে ভুগছিলেন। তার জন্য সম্পূর্ণ মদ্যপানমুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রয়োজন ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ম্যারাডোনাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ‘অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডে’ অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে কার্লোস দিয়াজও রয়েছেন। আদালতে তিনি বলেন, আবেগ ও আচরণের চরম ওঠানামা থেকেই বাইপোলার ডিসঅর্ডার চিহ্নিত করা যায়, আর নার্সিসিজমে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের প্রতিই অতিমাত্রায় আকৃষ্ট থাকে।
সাক্ষ্যে দিয়াজ জানান, ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি প্রথম ম্যারাডোনার সঙ্গে দেখা করেন, যা ছিল তার মৃত্যুর মাত্র ২৯ দিন আগে। সে সময় ম্যারাডোনাকে তিনি অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখেন এবং তার জীবনযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আদালতে আরও বলেন, ম্যারাডোনা মদ্যপান ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন এবং সেই লক্ষ্যেই তার চিকিৎসা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। টক্সিকোলজি রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে টানা ২৩ দিন তিনি কোনো ধরনের মাদক গ্রহণ করেননি।
ফুটবল ক্যারিয়ারে Boca Juniors, FC Barcelona ও Napoli-এর হয়ে খেলে সাফল্য অর্জন করেন ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালে তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয় করে।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তার মস্তিষ্কে জমে থাকা রক্ত অপসারণে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।
এই বিচারপ্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তার চিকিৎসা ও পরিচর্যায় যুক্ত ব্যক্তিদের কোনো অবহেলা বা অপরাধমূলক দায় ছিল কি না।
এদিকে মামলার আরেক আসামি নিউরোসার্জন Leopoldo Luque আদালতে দাবি করেছেন, ম্যারাডোনার বাড়িতে চিকিৎসার ব্যবস্থা যথাযথ ছিল এবং সেটিকে আইসিইউতে রূপান্তরের কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না।