আর্লিং হলান্ড–এর জয়সূচক গোল, গ্যালারিভর্তি দর্শকদের গর্জন আর ম্যাচশেষের উন্মাদনা সব মিলিয়ে ইতিহাদ স্টেডিয়াম-এর রোববার রাত ছিল রোমাঞ্চে ভরা। সেই ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি ২-১ গোলে হারিয়েছে লিগ শীর্ষে থাকা আর্সেনাল-কে। অনেকেই এটিকে এই মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ-এর ‘ফাইনাল’ হিসেবেও দেখছেন। প্রশ্ন উঠছে এই জয় কি শিরোপা লড়াইয়ে সিটির পাল্লা ভারী করে দিল?
তবে এখনো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। যদিও তাদের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৯ পয়েন্টের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ পয়েন্টে, আর সিটির হাতে রয়েছে একটি ম্যাচ বেশি। সামনে বার্নলির বিপক্ষে জয় পেলেই সিটি শীর্ষে উঠে যেতে পারে।
সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা জানিয়েছেন, কঠিন সূচির মধ্যেও তারা লড়াইয়ে আছে। তাঁর ভাষায়, আর্সেনাল এখন পর্যন্ত সেরা দল হলেও শেষ পর্যন্ত সুযোগ ছাড়তে রাজি নয় সিটি। অন্যদিকে মিকেল আর্তেতা মনে করেন, শিরোপা দৌড় এখন নতুন মোড় নিয়েছে এবং তার দল এখনো লড়াইয়ে দৃঢ়ভাবে টিকে আছে।
পরিসংখ্যানও এখন সিটির পক্ষে কথা বলছে। শেষ ২০ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে তারা, বিপরীতে আর্সেনালের সাম্প্রতিক ফর্ম তুলনামূলক দুর্বল। ইতিহাসও বলছে, গার্দিওলার দল এপ্রিল মাসে ভয়ংকর রূপ নেয়।
২০১২ সালের স্মৃতিও আবার সামনে আসছে, যখন শেষ মুহূর্তে শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছিল সিটি। এবারও কি সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে? নাকি দীর্ঘদিন শীর্ষে থাকা আর্সেনাল তাদের দৃঢ়তা প্রমাণ করবে?
ম্যাচ শেষে সিটির উদযাপন নিয়ে কিছু সমালোচনাও হয়েছে। সাবেক ফুটবলার ড্যানি মারফি মনে করেন, উদযাপনটা কিছুটা বেশিই হয়ে গেছে, যেন তারা ইতোমধ্যে শিরোপা জিতে ফেলেছে। তবে বাস্তবতা হলো লড়াই এখনো বাকি।
আগামী ম্যাচগুলোই নির্ধারণ করবে শিরোপার ভাগ্য। আর্সেনালের সামনে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ থাকলেও সিটির ধারাবাহিকতা তাদের বড় শক্তি। বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে ওয়েইন রুনি আর্সেনালকে এগিয়ে রাখছেন, আবার গ্যারি নেভিল মনে করছেন সিটিকে থামানো এখন কঠিন।
শেষ পর্যন্ত কে জিতবে শিরোপা? ইতিহাস কি আবার সিটির পক্ষেই কথা বলবে, নাকি আর্সেনাল তাদের স্বপ্ন পূরণ করবে এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।