তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাওয়া লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবনে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত বিদ্যুৎ সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। বিশেষ করে একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ফের চালু হলে সরবরাহ বাড়বে।
এছাড়া, দেশের একটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও কয়েক দিনের মধ্যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে এপ্রিলের শেষ দিকে প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মে মাসের শুরুতে আরও কিছু ইউনিট চালু হলে মোট সরবরাহ বাড়িয়ে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উন্নতি সম্ভব। এতে বর্তমান ঘাটতি কিছুটা কমে আসবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় সরবরাহ কমে গিয়েছিল। তবে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট পুরোপুরি কাটবে না। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও এতে ব্যয় অনেক বেড়ে যায়।
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলেও জানান তারা। এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
সব মিলিয়ে, সামনে কিছুটা উন্নতির আশা থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বিদ্যুৎ খাতের স্থিতিশীলতা।