দেশে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় অবস্থান করা মানুষের জন্য এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কৃষক, জেলে কিংবা মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষরা ঝড়ের সময় বাইরে থাকায় তারা বেশি আক্রান্ত হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতার অভাব এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ঘাটতাও মৃত্যুর অন্যতম কারণ। তাই আগেভাগেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর নির্দেশনা অনুযায়ী, বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো ঘরের ভেতরে অবস্থান করা। খোলা মাঠ, নদী বা পুকুরের পাশে থাকা এবং বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক।
কারণ, বজ্রপাত সরাসরি আঘাত না করলেও এর বৈদ্যুতিক প্রবাহ মাটির মাধ্যমে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে, যা কাছাকাছি থাকা মানুষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
খোলা জায়গায় আটকা পড়লে নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে। পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে শরীর ছোট করে রাখতে হবে এবং কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু রাখতে হবে।
যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই উঁচু জায়গা বা ভবনের ছাদে ওঠা যাবে না।
এছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি, মোবাইল টাওয়ার, ধাতব বস্তু বা একাকী উঁচু গাছের কাছাকাছি থাকা এড়িয়ে চলতে হবে।
নদী বা সমুদ্রে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ করে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। ছাউনিবিহীন নৌকায় অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
গাড়ির ভেতরে থাকলে ধাতব অংশ থেকে দূরে থাকতে হবে। আর বজ্রপাতে কেউ আহত হলে তাকে স্পর্শ করা নিরাপদ, তাই দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।
সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপই পারে বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জীবন বাঁচাতে।