Porbo24 | Bangladesh News Portal Breaking News, National & International Updates

ঢাকা
...
আপডেট: যাচাই হচ্ছে...
ads
যুদ্ধ পরিস্থিতি লাইভ
LIVE আপডেট
১৭ জুন ক্যাম্পাসে পা রাখছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীরাযুক্তরাষ্ট্রে ভিজিট ভিসায় কী করা যাবে আর কী নয়? নতুন নির্দেশনা জানাল দূতাবাসবিমান থেকে উধাও অস্কার জয়ী রুশ পরিচালকের সোনালি ট্রফিসংরক্ষিত নারী এমপিদের শপথ কাল প্রস্তুতি সম্পন্নআশুলিয়ায় ১৩০০ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তারচৌদ্দগ্রামে দোকান দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলির খোসা উদ্ধার১৭ জুন ক্যাম্পাসে পা রাখছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীরাযুক্তরাষ্ট্রে ভিজিট ভিসায় কী করা যাবে আর কী নয়? নতুন নির্দেশনা জানাল দূতাবাসবিমান থেকে উধাও অস্কার জয়ী রুশ পরিচালকের সোনালি ট্রফিসংরক্ষিত নারী এমপিদের শপথ কাল প্রস্তুতি সম্পন্নআশুলিয়ায় ১৩০০ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তারচৌদ্দগ্রামে দোকান দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলির খোসা উদ্ধার

রাষ্ট্রীয় কৃচ্ছতা (Austerity) কেবল একটি অর্থনৈতিক নীতি নয়; এটি একটি সামগ্রিক মানসিকতা, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে অপচয় কমিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয়ে গুরুত্ব দেয়। সংকটের সময় এই নীতি শুধু অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখে না, বরং জাতির মানসিক দৃঢ়তাও বাড়ায়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে জাতি সংকটে সংযম শিখেছে, সে-ই পরবর্তীতে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি সরকারের কৃচ্ছতা সংক্রান্ত উদ্যোগ সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের জন্য প্রয়োজনীয়ই নয়, অপরিহার্য।

মোল্লা নাসিরুদ্দিনের একটি গল্প এখানে প্রাসঙ্গিক। তিনি একবার অল্প খাবারের দাওয়াত দিয়ে বলেছিলেন “অভাবের স্বাদ না জানলে মানুষ হঠাৎ সংকটে ভেঙে পড়ে।” এই গল্প আমাদের শেখায়, কৃচ্ছতা শুধু অর্থের নয়, মানসিক প্রস্তুতিরও বিষয়।

অর্থনীতিবিদ আকবর আলী খান বারবার বলেছেন, আমাদের বড় সমস্যা ‘অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সংস্কৃতি’। উন্নয়ন মানেই বড় প্রকল্প নয়; বরং সুশাসন, পরিকল্পনা ও ব্যয়ের শৃঙ্খলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব ইতিহাসেও কৃচ্ছতার শক্ত উদাহরণ রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনে রেশনিং চালু হয়েছিল, জাপানে দুর্যোগের সময় মানুষ সীমিত সম্পদে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করেছে, আর কোভিড-১৯ মহামারীতে বহু দেশ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্ব দিয়েছে। এসব প্রমাণ করে কৃচ্ছতা একটি সামাজিক চুক্তি।

সংকট সৃজনশীলতাও বাড়ায়। সীমিত সম্পদের মধ্যেই মানুষ নতুন সমাধান খুঁজে পায়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বিশ্ব ঝুঁকেছে ঠিক এমন সংকট থেকেই।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আমাদের সতর্ক করছে। এ অবস্থায় শুধু সরকারি নীতিই যথেষ্ট নয় প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমানো, সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।

রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত জরুরি:

  • অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প স্থগিত করা
  • প্রশাসনিক ব্যয় কমানো
  • দুর্নীতি দমন জোরদার করা
  • উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো

একইসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে কৃচ্ছতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

ইতিহাসে দেখা যায়, রাষ্ট্রনায়করা নিজের আচরণ দিয়েও কৃচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে সংযম দেখিয়ে তারা জনগণকে বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের আমানত।

আজকের প্রেক্ষাপটে কৃচ্ছতা কোনো দুর্বলতার প্রতীক নয়; বরং এটি দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বের পরিচয়। জ্বালানি সাশ্রয়, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অপচয় কমানো এসব উদ্যোগ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সবচেয়ে বড় কথা, কৃচ্ছতা একটি সম্মিলিত চর্চা। পরিবার যেমন সংকটে ব্যয় কমায়, রাষ্ট্রকেও তেমনি করতে হয়। রাষ্ট্র কোনো আলাদা সত্তা নয় এটি অসংখ্য পরিবারের সমষ্টি।

অপচয় কমানো মানে জীবনমান কমানো নয়; বরং এটি একটি টেকসই ও সচেতন জীবনধারার দিকে অগ্রসর হওয়া। ছোট ছোট পদক্ষেপ যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয়, গণপরিবহন ব্যবহার, দেশীয় পণ্য কেনা সম্মিলিতভাবে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সংকট আমাদের সংযম শেখায়, আর সংযম জাতিকে টিকিয়ে রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

PORBO24

অপেক্ষা করুন...