৩ হাজার বছরের নীরবতা ভেঙে বেজেছিল তুতেনখামেনের তূর্য, শুনেছিল বিশ্ব
প্রায় তিন হাজার বছর ধরে নীরব ছিল প্রাচীন মিসরের ফারাও তুতেনখামেনের সমাধিতে রাখা দুটি তূর্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী অন্ধকার সমাধির ভেতরে পড়ে থাকা সেই বাদ্যযন্ত্র ১৯৩৯ সালে আবারও বেজে ওঠে, আর তার শব্দ রেডিও তরঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের কোটি মানুষের কানে।
১৯৩৯ সালের এপ্রিল মাসে বিবিসির এক বিশেষ সরাসরি সম্প্রচারে প্রথমবারের মতো তুতেনখামেনের সমাধি থেকে উদ্ধার করা একটি তূর্য বাজানো হয়। কায়রো থেকে সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠান শুনতে বিশ্বের প্রায় ১৫ কোটি মানুষ রেডিওর সামনে বসেছিলেন। ঘোষকের পরিচয়ের পর নীরবতা ভেঙে বেজে ওঠে হাজার বছরের পুরোনো সেই তূর্য, যা ইতিহাস ও আধুনিক সময়ের মধ্যে এক অনন্য সংযোগ তৈরি করে।
তুতেনখামেনের সমাধি থেকে উদ্ধার করা দুটি তূর্যের একটি ছিল রুপার এবং অন্যটি ব্রোঞ্জ বা তামার তৈরি। এগুলোর গায়ে ফুলের নকশা ও প্রাচীন মিসরীয় দেবতাদের প্রতিকৃতি খোদাই করা ছিল। গবেষকদের ধারণা, রাজকীয় শোভাযাত্রা, সামরিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এসব তূর্য ব্যবহার করা হতো।
প্রাচীন মিসর বিষয়ক গবেষকরা মনে করেন, তূর্য দুটি শুধু বাদ্যযন্ত্র ছিল না; এগুলো মিসরীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পরকালের ধারণার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপালি ও সোনালি আভাযুক্ত দুই তূর্য দিন ও রাতের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
তবে ঐতিহাসিক সেই সম্প্রচার সহজ ছিল না। অনুষ্ঠানটির মহড়ার সময় রুপার তূর্যটি বাজাতে গিয়ে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। পরে মেরামত করে আবার ব্যবহার করা হয়। এমনকি অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শেষ পর্যন্ত মোমবাতির আলোয় সম্প্রচার চালাতে হয়েছিল।
এই সম্প্রচারের কয়েক মাস পরই শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ফলে অনেকের মধ্যে তুতেনখামেনের তথাকথিত ‘অভিশাপ’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। যদিও গবেষকরা এসব দাবিকে কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
বর্তমানে তূর্য দুটি মিসরের গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামে বিশেষ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ভঙ্গুর অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে আর কখনো আসল তূর্যে ফুঁ দেওয়া হবে না।
তবে ১৯৩৯ সালের সেই ঐতিহাসিক রেকর্ডিং এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে তুতেনখামেনের তূর্য হয়তো আর কখনো বাজবে না, কিন্তু তার হাজার বছরের পুরোনো প্রতিধ্বনি প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে যাবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।