পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব বৈসাবিকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব। বর্ণিল এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি শহরের পানখাইয়াপাড়া বটতলায় ‘দঃ’, গিলা, আলারীসহ নানা ঐতিহ্যবাহী লোকজ খেলাধুলার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলার সূচনা করেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান।
মারমা উন্নয়ন সংসদ ও মারমা যুব কল্যাণ সংসদের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবকে ঘিরে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা।
উদ্বোধনী পর্বে মারমা তরুণীদের নাচ-গান দর্শকদের মুগ্ধ করে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সংগীতের মাধ্যমে ফুটে ওঠে মারমা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়। একই সঙ্গে বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান করানোর মাধ্যমে পালন করা হয় উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ একটি আচার।
জেলা প্রশাসক বলেন, সাংগ্রাই পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এ ধরনের আয়োজন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য ও বোঝাপড়া আরও বাড়াবে।
উৎসব কমিটির সদস্য সচিব নিয়ং মারমা বলেন, সাংগ্রাই আমাদের ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীরা জানান, সাংগ্রাইয়ের সময় পুরো এলাকা উৎসবের রঙে ভরে ওঠে। নাচ, গান ও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতি উদযাপন করতে পেরে তারা গর্বিত।
মারমা সমাজকর্মীরা মনে করেন, উৎসব ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়েই একটি জাতিগোষ্ঠীর পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
এদিকে বৈসাবিকে ঘিরে খাগড়াছড়িজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আগাম আমেজ। আগামী ১২ এপ্রিল চাকমাদের ফুল বিজু, ত্রিপুরাদের বৈসু এবং বাংলা নববর্ষের দিন থেকে শুরু হবে মারমা জনগোষ্ঠীর তিন দিনব্যাপী সাংগ্রাই উৎসব।