দীর্ঘদিনের সংঘাতের ইতিহাসে অভ্যস্ত ইসরাইল এখন ভেতর থেকেই চাপে পড়েছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগে ক্রমেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে সাধারণ ইসরাইলি নাগরিকরা। একই সঙ্গে বাড়ছে দেশ ছাড়ার প্রবণতাও।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি নাগরিক জীবনে পড়ায় পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত ঘিরে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজধানী Tel Aviv এ সাম্প্রতিক এক সমাবেশে শত শত মানুষ যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দেয় এবং সরকারের নীতির সমালোচনা করে।
বিক্ষোভকারীরা ‘যুদ্ধ নয়, আলোচনা চাই’সহ নানা স্লোগান তুলে সংঘাত বন্ধের দাবি জানান। তারা মনে করেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের নিরাপত্তার চেয়ে ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
ইসরাইলি তৃণমূল সংগঠন Standing Together এর এক নেতা বলেন, ইরান, গাজা ও লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধ করা জরুরি। তার মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুধু ক্ষয়ক্ষতিই বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, শুধু রাজধানী নয়, Haifa এবং Jerusalem সহ বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
কেন ক্ষুব্ধ ইসরাইলিরা
চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। জ্বালানি, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের দীর্ঘ সময় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে।
এতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিচালনায় বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতিও চাপে পড়েছে।
বাড়ছে দেশ ছাড়ার প্রবণতা
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম TRT World এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরাইলি দেশত্যাগ করেছে। বিশেষ করে উচ্চ দক্ষ পেশাজীবীদের একটি অংশ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার খোঁজে বিদেশে চলে যাচ্ছেন।
গবেষকদের মতে, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ অব্যাহত থাকলে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, যা দেশটির জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
সীমান্তে ভিড়, বাড়ছে উদ্বেগ
সংঘাতের কারণে আকাশপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। মিশর সীমান্তের তাবা ক্রসিং এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে The Jerusalem Post জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জরুরি সতর্কতা জারি করা হলে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
সরকারের ভিন্ন দাবি
তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা Reuters এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইহুদি নাগরিক ইসরাইলে ফিরে এসেছে বলে দাবি করছে দেশটির কর্মকর্তারা।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই বরং দেশের ভেতরেই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে। এই পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।