লেবাননে ইসরায়েলের ‘ইয়েলো লাইন’ স্থাপন: যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন উত্তেজনা
লেবানন সীমান্তে গাজার আদলে ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ সীমারেখা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এই রেখা অতিক্রম করলে সরাসরি হামলা চালানো হবে।
ইয়েলো লাইন ও ইসরায়েলি অবস্থান
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে এই সীমারেখা নির্ধারণ করেছে। তাদের দাবি, উত্তর দিক থেকে আসা কোনো সন্দেহভাজন যোদ্ধা এই লাইন অতিক্রম করলে তাকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে গণ্য করা হবে। ইতিমধ্যেই এই সীমারেখা লঙ্ঘনের অভিযোগে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানোর দাবি করেছে আইডিএফ।
গাজা মডেলের প্রতিফলন
উল্লেখ্য যে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সেখানে একটি ‘ইয়েলো লাইন’ বিদ্যমান, যা ভূখণ্ডটিকে দুটি সামরিক জোনে ভাগ করেছে। লেবাননেও একই কৌশল অবলম্বন করায় এটি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
চলমান সহিংসতা ও হতাহত
যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ থেমে নেই। এতে বেশ কিছু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া:
- কৌশলগত এলাকা দখল: সীমান্ত সংলগ্ন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েল।
- শান্তিরক্ষী নিহত: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (ইউনিফিল)-এর ওপর হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি নিলেও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করছে। ফলে রাজনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।