ইসলামে যেকোনো দায়িত্ব বা ক্ষমতা কেবল সম্মান নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি কঠিন পরীক্ষা। ছোট হোক বা বড়, প্রতিটি দায়িত্বই একটি আমানত, যার জন্য একদিন অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, আমানত যথাযথ ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতে এবং মানুষের মধ্যে বিচার করার সময় ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে। এই নির্দেশনা স্পষ্ট করে যে, নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব মানে শুধু প্রভাব নয়, বরং ন্যায়বিচার, সততা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিশ্রুতি।
মহানবী (সা.) এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনো দায়িত্বে নিয়োজিত এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। অর্থাৎ, একজন শাসক, নেতা কিংবা পরিবারের কর্তা—সবার জন্যই রয়েছে হিসাবের দিন।
ইসলাম মানুষকে শিখিয়েছে, জীবনের প্রতিটি কাজের হিসাব একদিন আল্লাহর সামনে দিতে হবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, অণু পরিমাণ ভালো বা মন্দ কাজও মানুষের সামনে উপস্থিত করা হবে।
হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন মানুষকে তার জীবন, জ্ঞান, উপার্জন ও ব্যয়ের উৎস এবং শরীরের ব্যবহারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন কোনো ক্ষমতা, পদমর্যাদা বা পরিচয় কাজে আসবে না।
কোরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে, সেই ভয়াবহ দিনে কেউ কারো উপকারে আসতে পারবে না। পিতা সন্তানকে, সন্তান পিতাকে, এমনকি নিকট আত্মীয়রাও একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। প্রত্যেকে তখন নিজের অবস্থার চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে।
অথচ দুনিয়ায় মানুষ প্রায়ই ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জন করে বা জুলুমে লিপ্ত হয়। কিন্তু মৃত্যুর পর এসব কিছুই তার কোনো কাজে আসবে না। বরং এই অন্যায়গুলোই তার জন্য আখিরাতে লাঞ্ছনার কারণ হবে।
মহানবী (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, আল্লাহ যাকে মানুষের দায়িত্ব দিয়েছেন, যদি সে খিয়ানাত করে, তাহলে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে।
তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, বিশেষ করে যারা ক্ষমতার আসনে আছেন, তারা যেন নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন। কারণ দুনিয়ার ক্ষমতা সাময়িক, কিন্তু আখিরাতের জবাবদিহি চিরস্থায়ী।