ইসলামে জ্ঞানার্জনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের প্রথম নাজিল হওয়া আয়াতেই মানবজাতিকে ‘পড়ার’ নির্দেশ দেওয়া হয়, যা জ্ঞানের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
হেরা পর্বতে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বাণী নিয়ে আসেন, তার শুরুই ছিল পড়ার নির্দেশ দিয়ে। এতে বোঝা যায়, মানবজাতির উন্নয়ন ও আলোকিত জীবনের জন্য জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য।
যদিও রাসুল (সা.) নিজে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন ছিলেন না, তবুও কোরআনের শিক্ষা ও আল্লাহর নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি পুরো মানবজাতির জন্য জ্ঞানের আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠেন। ইসলামে তাই প্রতিটি মুমিনের জন্য জ্ঞান অর্জনের প্রতি আগ্রহী হওয়া এবং তা কাজে লাগানো অত্যাবশ্যক বলে বিবেচিত।
ধর্মীয় শিক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জীবনযাপন ও জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় জাগতিক শিক্ষাও সমানভাবে জরুরি। ইসলাম মানুষকে স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করে এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা নিরুৎসাহিত করে।
পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বের করে আনতেই রাসুল প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে তারা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারে। একইভাবে হাদিসেও বলা হয়েছে, জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জাতির উন্নতির মূল ভিত্তি শিক্ষা। শিক্ষা মানুষের চিন্তাশক্তি বিকাশ করে, নৈতিকতা গড়ে তোলে এবং সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব স্তরেই জ্ঞানচর্চা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।