চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু জ্বালানি সংকট নয়, বড় অর্থনীতির দেশগুলোও মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দার মুখে পড়তে পারে। এমনকি যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘ সময় পর্যন্ত থাকতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের উদ্ধৃতি দিয়ে লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক পিল হান্ট জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘ হলে বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। এতে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনও পড়তে পারে।
ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে এর অর্থনৈতিক প্রভাব চলবে। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা করছে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
পিল হান্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্যালাম পিকারিং বলেন, “ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ঝুঁকি বাড়ছে। জ্বালানি খাতের ধাক্কা ইতোমধ্যেই এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায় উৎপাদন বন্ধের কারণ হয়েছে। ইউরোপেও একই অবস্থা দেখা দিলে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে।”
মার্চ মাসে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি ১.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মূলত ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফল। কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা বাড়ালে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘায়িত যুদ্ধ বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দা তৈরি করতে পারে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতি শিথিল করতে পারবে না, বরং সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন, জনগণকে বাড়তি দামের চাপ থেকে রক্ষা করতে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে।