মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় আবারও উত্তেজনা বাড়িয়েছে একটি ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনা। ওমান উপসাগর এ মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আটক ওই জাহাজ ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানি পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজ থামতে অস্বীকার করায় সেটিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। পরে জাহাজটি অচল করে নিয়ন্ত্রণে নেয় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এর সদস্যরা।
কী পাওয়া গেছে জাহাজে
মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ নিকি হ্যালি দাবি করেছেন, জব্দ জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সরঞ্জাম ছিল। তার মতে, এসব সরঞ্জাম চীন থেকে ইরান এ নেওয়া হচ্ছিল।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ঘটনাটি ইরানকে সহায়তায় চীনের সম্ভাব্য ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তেহরানের প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটিকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজে সাধারণ ক্রু ও তাদের পরিবারের সদস্য থাকায় বড় ধরনের সংঘাতে জড়ানো হয়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আসন্ন আলোচনায় না যাওয়ার সিদ্ধান্তও জানিয়েছে তেহরান। তাদের দাবি, সমুদ্রপথে মার্কিন অবরোধ না সরালে কোনো সংলাপ সম্ভব নয়।
গোয়েন্দা তথ্য যা বলছে
মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, জাহাজে এমন কিছু উপকরণ থাকতে পারে যা একই সঙ্গে শিল্প ও সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য। এর আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট শিপিং নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।
বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ
ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে জাহাজটি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মার্কিন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে তারা। ঘটনার বিষয়ে চীনও আপত্তি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।