বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে ব্যতিক্রমী এক পরিকল্পনা বিবেচনায় নিচ্ছে ভারত। যেসব দুর্গম এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কুমির ও বিষধর সাপ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিএসএফের অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীমাতৃক সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বৈঠকে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয় এবং পরে মাঠপর্যায়ে সমীক্ষা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বড় একটি অংশে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হলেও কিছু নদী ও জলাভূমি এলাকায় তা সম্ভব হয়নি। এসব এলাকাকে নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করছে বিএসএফ। তাদের মতে, এসব ফাঁকা অঞ্চল দিয়েই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের ঘটনা বেশি ঘটে।
তবে এই পরিকল্পনা সামনে আসার পরই বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রাণঘাতী বন্যপ্রাণী ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিমভাবে অন্য এলাকা থেকে এনে সাপ বা কুমির ছেড়ে দিলে তা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে বন্যার সময় এসব প্রাণী লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে সীমান্তবর্তী দুই দেশের বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশ এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তবুও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে বিষয়টি এখনো বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।