বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান জাহাজ চলাচলের জন্য বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও প্রণালিটি পুরোপুরি খোলা নাকি সীমিতভাবে চালু রয়েছে তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।
বৃহস্পতিবার ইরান জানায়, সমুদ্রপথটিতে মাইন থাকার ঝুঁকি রয়েছে। তাই নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জাহাজগুলোকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চললে সীমিত আকারে চলাচলের সুযোগ থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
যদিও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে প্রণালিটি আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে কতটি জাহাজ চলাচল করছে তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের গণমাধ্যমের দাবি, লেবাননে তাদের মিত্রদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকায় প্রণালিটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এমনকি একটি জাহাজ প্রণালির কাছ থেকে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে ভিন্ন কথা। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রণালি বন্ধ থাকার খবর সঠিক নয় এবং এই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে জাহাজ চলাচল সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উপসাগরীয় এলাকায় অবস্থানরত জাহাজগুলোকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া এই পথ ব্যবহার করলে ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব জাহাজকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি মাইন থাকার সম্ভাবনার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকির মধ্যেই ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। মার্চের শুরু থেকে প্রণালিতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা দেখা দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা নাকি সীমিতভাবে চালু রয়েছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি, ফলে বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।