দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশুমৃত্যু বাড়ার পেছনে স্বাস্থ্য খাতের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তন বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অপারেশনাল প্ল্যান বা ওপি হঠাৎ বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জনবল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, পূর্বের কাঠামোতে টিকা সংগ্রহ, বিতরণ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সেই কাঠামো থেকে সরে এসে নতুন পদ্ধতিতে যাওয়ার ফলে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের ছেদ পড়ে। এতে অনেক এলাকায় টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নীতিগত এই পরিবর্তনের সময় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অনেকেই আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে, বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি না করে হঠাৎ করে এমন পরিবর্তন আনা হলে সেবায় বিঘ্ন ঘটবে। কিন্তু সেই সতর্কতা গুরুত্ব পায়নি।
ফলে বর্তমানে টিকা সরবরাহে ঘাটতি, জনবল সংকট এবং অর্থায়নের অনিশ্চয়তা একসঙ্গে সংকটকে আরও গভীর করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে সামান্য ব্যাঘাতও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, কারণ সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে মাঠপর্যায়ে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন ও সুবিধা সংক্রান্ত জটিলতাও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অনেক কর্মী অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে তৃণমূল পর্যায়ে টিকা কাভারেজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে এগোনো জরুরি ছিল। হঠাৎ সিদ্ধান্তের ফলে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এখন সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।
তারা বলছেন, দ্রুত টিকা সরবরাহ স্বাভাবিক করা, জনবল সংকট নিরসন এবং অর্থায়ন নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।