বাজেটের স্বল্পতা, জনবল ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় দেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে রয়েছে। করোনা পরবর্তী সময়ে এসব সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলেও কাঙ্ক্ষিত সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এখনও মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলে এ খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বারবার উঠে আসছে। যদিও World Health Organization স্বাস্থ্য খাতে উচ্চতর বরাদ্দের সুপারিশ করে আসছে, বাস্তবে তা অর্জিত হয়নি।
স্বাস্থ্য সচিব Kamruzzaman Chowdhury জানিয়েছেন, সরকার ধীরে ধীরে বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, বরাদ্দ বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং সেই অর্থ ব্যবহারে দক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ Lelin Chowdhury বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
জনবল সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে রোগীসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং চিকিৎসকদের ওপর বাড়ছে চাপ।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী Sardar Md Sakhawat Hossain জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু নিয়োগ নয়, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসা ব্যয়ের চাপও সাধারণ মানুষের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশই রোগীদের নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়, যা অনেক পরিবারকে আর্থিক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ Benazir Ahmed মনে করেন, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে নীতিগত সংস্কার জরুরি। না হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এছাড়া উন্নত চিকিৎসা সেবা বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠী পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট, দক্ষ জনবল ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাস্থ্য খাতের এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।