টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। টাঙ্গুয়া, বাদালিয়া, বরাম, চাপতি, উদগল, কালিয়াগুটা, টাংনি ও সাকিতপুরসহ একাধিক হাওরের নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
এতে পাকা ও আধাপাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে, আবার কোথাও কোথাও ডুবুডুবু অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় এসব ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে কাটা ধান শুকাতেও পারছেন না কৃষকরা। খলায় রাখা ধান ভিজে গিয়ে চারা গজাতে শুরু করেছে, ফলে আগাম ধান কেটে কিছুটা স্বস্তিতে থাকা কৃষকরাও নতুন করে বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলায় মোট আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৭৮ হেক্টর। এর মধ্যে মাঠে দণ্ডায়মান ফসল রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৩০১ হেক্টর। অতিবৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে অন্তত ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কেউ নৌকায় আবার কেউ কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। তবে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই ধান ঘরে তোলা ও শুকানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হাওরের ফসল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বরাম হাওর পরিদর্শন করেছেন। তিনি কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।