দেশীয় বাজারে টানা পতনের ধারায় গত ২৩ দিনে প্রতি ভরি সোনার দাম প্রায় ৩৬ হাজার টাকা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের প্রভাবেই এই পরিবর্তন এসেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ভরি সোনার দাম প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা, যা মার্চের শুরুতে ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।
মার্চ মাসে ১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে মোট ১২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বারই দাম কমানো হয়েছে।
এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। গত বছরের জানুয়ারিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা চলতি বছরের শুরুতে বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ২২ হাজার টাকায় এবং ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছায়।
আন্তর্জাতিক বাজারেও একই সময়ে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। গত ৩০ দিনে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৭৫৭ ডলারের বেশি কমেছে। তবে সপ্তাহের শেষদিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাজার।
বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্ভাব্য হামলা ৫ দিন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলে তেলের দাম কমে যায় এবং সোনার বাজারে কিছুটা স্থিতি ফিরে আসে।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি খরচ ও স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সোনার দাম নির্ধারিত হয়। আমদানির পর ১২-১৫ দিনের প্রক্রিয়াজাতকরণ সময় থাকায় আন্তর্জাতিক দামের প্রভাব কিছুটা দেরিতে বাজারে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আবারও সোনার দাম বাড়তে পারে। কারণ অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা সাধারণত সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন।