মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং Strait of Hormuz ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি বছর জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে World Bank।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে সার ও ধাতুসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি পরিবাহিত হয়। সংঘাতের কারণে দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে Brent Crude তেলের দাম ইতোমধ্যে বাড়তির দিকে রয়েছে। বছরের শুরু থেকে এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এটি ১১৫ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
জ্বালানির পাশাপাশি সারের বাজারেও চাপ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারের দাম প্রায় ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং ইউরিয়ার ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি আরও বেশি হতে পারে। এতে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনসহ বিভিন্ন শিল্প ধাতুর দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের মতো মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা Indermit Gill বলেন, সংঘাতের প্রভাব ধাপে ধাপে অর্থনীতিতে আঘাত হানে। প্রথমে জ্বালানি, পরে খাদ্য এবং শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধি পায়, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।