বিশ্ব অর্থনীতি নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক মন্দা দেখা দিতে পারে।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। চলতি বছর থেকে শুরু করে আগামী বছর পর্যন্ত তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে এটি ১৯৮০ সালের পর বিশ্বের পঞ্চম বড় অর্থনৈতিক মন্দা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
আইএমএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি এ বছর তেলের গড় দাম ১১০ ডলার এবং আগামী বছর ১২৫ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থবিরতা আরও তীব্র হবে।
এ অবস্থায় ২০২৭ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে। ফলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে হবে, যা অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াবে।
তবে কিছুটা আশার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংকট নিরসন হয় এবং বছরের মাঝামাঝি নাগাদ জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক হয়, তাহলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। যদিও এটি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের অর্থনীতি এ বছর ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় সরবরাহকারী কাতারও ঝুঁকির বাইরে নয়। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো হামলার মুখে পড়ায় তাদের অর্থনীতিও সংকুচিত হতে পারে।
আইএমএফের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার ওপর। যেমন, সৌদি আরব বিকল্প পাইপলাইন ব্যবস্থার কারণে কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক মাসই নির্ধারণ করবে বিশ্ব অর্থনীতি কোন পথে এগোবে।
সূত্র: বিবিসি