প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। তিনি জানিয়েছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উপকারভোগী নারীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে নারী ও শিশুর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে দরিদ্র নারীদের জন্য Vulnerable Women Benefit Programme, মা ও শিশুর পুষ্টি সহায়তা, নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে ক্ষুদ্রঋণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বাজারজাত করতে Joyita Foundation এর কার্যক্রম।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি টোল ফ্রি হেল্পলাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ট্রমা কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন সহায়তা সেবা চালু রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ করা হবে। এতে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা এবং টিকাদান কার্যক্রম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ, জীবিকা সহায়তা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শিশুদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, Bangladesh Shishu Academy সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি পথশিশু পুনর্বাসন ও কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সরকারি এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ও শিশুর সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।