রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কোথাও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে। এতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
রোববার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ খুচরা দোকানেই বোতলজাত তেলের সংকট। সীমিত সরবরাহ থাকায় বিক্রেতারা বাড়তি দামে তেল বিক্রি করছেন। পাঁচ লিটারের বোতল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, একই চিত্র ছোট বোতলের ক্ষেত্রেও।
খোলা তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। সয়াবিন ও পামঅয়েল দুটোরই দাম নির্ধারিত দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এতে প্রতি লিটারে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বাজারে ঘুরতে আসা অনেকেই জানান, একাধিক দোকান ঘুরেও তারা বোতলজাত তেল পাননি। বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা তেল কিনতে হয়েছে। কেউ কেউ আবার প্রয়োজনীয় তেল না পেয়ে খালি হাতেই ফিরেছেন।
এ পরিস্থিতির জন্য ব্যবসায়ীরা দিচ্ছেন ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, কোম্পানিগুলো আগের মতো তেল সরবরাহ করছে না। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোতলজাত তেলের সংকটের কারণে খোলা তেলের ওপর চাপ বেড়েছে।
তবে তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। উৎপাদন অব্যাহত আছে এবং বাজারে তেল পাঠানো হচ্ছে নিয়মিত। তাদের মতে, মধ্যস্বত্বভোগীদের মজুত প্রবণতাই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
সরকারি তথ্য বলছে, দেশে ভোজ্যতেল আমদানিতে বড় কোনো ঘাটতি নেই। তবুও বাজারে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন, যার চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজার তদারকি অব্যাহত আছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতিও আগের তুলনায় ভালো। তারা আশা করছে, শুল্ক সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত এলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে।
বর্তমান বাস্তবতায় সরকারি বক্তব্য ও বাজার পরিস্থিতির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় এবং কঠোর নজরদারি না বাড়ালে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।