ই-সিগারেটসহ ইমার্জিং টোব্যাকো পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে দেশে জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, বাংলাদেশে এখনো এসব পণ্যের ব্যবহার তুলনামূলক কম। এই অবস্থায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা গেলে সহজেই এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে এবং বিপুলসংখ্যক কিশোর-তরুণকে ক্ষতিকর আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখা যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশ বর্তমানে জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীতে ই-সিগারেটসহ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো পণ্য নিষিদ্ধ করার বিধানটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জারি করা সংশোধনীতে এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন, পরিবহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছিল।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ও তাদের সমর্থকদের প্রভাবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো পণ্যগুলোও প্রচলিত তামাকের মতোই আসক্তিকর এবং অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে এসব পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ ধরনের পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পথে হেঁটেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশ নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করেছে এবং আরও অনেক দেশ কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। একইভাবে বহু দেশ ই-সিগারেটের ব্যবহার বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় দেশে নতুন করে তামাক আসক্তির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।