পহেলা বৈশাখের সকালে বর্ণিল আয়োজনে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ঢোল-বাদ্য আর রঙিন মোটিফের সমারোহে চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত বৈশাখী শোভাযাত্রা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এর আগেই সকাল থেকে চারুকলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসবপ্রেমীরা।
শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। বর্ণিল পোশাক, ঢাক-ঢোলের তালে তালে আনন্দে মেতে ওঠেন সবাই। শোভাযাত্রায় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করেন এবং ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রী সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেন।
এবারের আয়োজনেও লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছাপ ছিল স্পষ্ট। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে তৈরি বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
পাঁচটি প্রধান মোটিফকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে এবারের শোভাযাত্রা। মোরগ, দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া প্রতীকীভাবে তুলে ধরছে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার বার্তা।
এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল অশুভ শক্তির বিনাশ এবং একটি কল্যাণময় ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।
এদিকে পুরো আয়োজন ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে মুখোশ, ব্যাগ, ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি, আর্চওয়ে, হেল্প ডেস্ক ও অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে রাখা হয়েছে বিশেষ নজরদারি।
সব মিলিয়ে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর আনন্দের মেলবন্ধনে এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রা হয়ে উঠেছে এক অনন্য আয়োজন।