রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন মগবাজারের মধুবাগ এলাকার বাসিন্দা প্রতীক বর্ধন। ইস্কাটনের একটি স্কুলে পড়া ছেলেকে নিয়ে সকাল আটটার আগেই রিকশায় রওনা দিলেও শুরু হয় বিপত্তি।
বৃষ্টির কারণে রিকশার সংকট দেখা দেয়, আর যেটি পাওয়া যায় সেটিতেও ছিল না কোনো পলিথিনের ব্যবস্থা। ঝোড়ো হাওয়ায় ছাতা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে ভিজে যান প্রতীক ও তার সন্তান। পরে কারওয়ান বাজারে যাওয়ার পথেও তাকে আবার বৃষ্টির মুখে পড়তে হয়।
সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনো দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বজ্রমেঘের সক্রিয়তা এবং সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল (২৮ এপ্রিল) দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৯৬ ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, রাজধানীতে আজ দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টি কমলেও আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টির পর্যায়ে পড়ে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, এই সময়ে কালবৈশাখীর প্রভাব থাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বৃষ্টিপাত একটানা না হয়ে থেমে থেমে হতে পারে।