জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে জনস্বাস্থ্যে। অনিয়মিত বৃষ্টি, বাড়তি তাপমাত্রা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে দেশে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৪৬০ জন। গড়ে প্রতিদিন পাঁচজনের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের ১৩টি জেলা এখনো উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মশার বংশবিস্তার বেড়েছে। তাপমাত্রা বাড়লে মশার প্রজনন দ্রুত হয় এবং রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়ে। পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন হওয়ায় অনেক এলাকায় স্থির পানি জমে মশার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কিছুটা কমলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এ জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরীক্ষা, সচেতনতা এবং শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
কিছু এলাকায় এখনো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ম্যালেরিয়া শনাক্তকরণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এই রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, অনেকেই ভয় বা অনীহার কারণে চিকিৎসা নিচ্ছেন না, ফলে ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। উন্নত নগর ব্যবস্থাপনা, সঠিক পরিকল্পনা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই ঝুঁকি কমানো কঠিন হবে।
সব মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমানের বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।