কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জেলায় একযোগে কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন বা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সামগ্রিক অগ্রগতি ২৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। প্রথম ছয় মাসে প্রায় ১২০০ কিলোমিটার কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দখল, ভরাট ও নাব্যতা সংকটে দেশের বহু খাল অচল হয়ে পড়েছিল। এতে সেচব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন, মাছ চাষ এবং গ্রামীণ যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব সমস্যা কাটাতে সমন্বিতভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উত্তরের দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা হয়। পরে যশোর জেলার শার্শা উপজেলার উলশী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত খালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ সম্প্রসারিত হয়।
এদিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী এলাকায় একাধিক খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। গাছা খালের প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননে বড় অঙ্কের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পূর্বাঞ্চলের সিলেট অঞ্চলেও খাল ও নদী খনন কার্যক্রম চলছে। এখানে অগ্রগতি প্রায় ২০ শতাংশ। বাসিয়া নদীর একটি দীর্ঘ অংশ পুনরুদ্ধারের কাজও এগোচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চলের নওগাঁ ও রাজশাহী অঞ্চলে একাধিক খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। একইভাবে ফরিদপুর, নোয়াখালী ও মাগুরা জেলাতেও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। কিছু এলাকায় কাজের অগ্রগতি ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তবে সব জেলায় সমান গতিতে কাজ এগোচ্ছে না। ময়মনসিংহ জেলায় পরিকল্পনা থাকলেও বরাদ্দ জটিলতায় এখনো প্রকল্প শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেট পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।