পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এসএসসি পরীক্ষার্থী বিথী আক্তারের ডান হাত হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দিয়েছেন তার আপন চাচা। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শ্রুতিলেখকের সহায়তায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পর জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বিথীর ওপর হামলা চালান তার চাচা। এ সময় হাতুড়ির আঘাতে তার ডান হাত গুরুতরভাবে ভেঙে যায়।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ডান হাত ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে লিখে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তার এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন।
উপজেলা প্রশাসনের আবেদনের পর বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বিশেষ অনুমতি দেয়। এরপর একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তারকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের সহায়তায় অংশ নেয় বিথী। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও পরীক্ষায় বসতে পারায় সে ও তার পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
বিথী আক্তার বলেন, পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পর হামলার শিকার হয়ে তিনি আহত হন। এতে তার হাত ভেঙে যায় এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তিনি ভেবেছিলেন আর পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না, তবে প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন।
ইউএনও আকলিমা আক্তার বলেন, পরীক্ষার্থীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার (তদন্ত) অফিসার ইনচার্জ শেখ হিলাল উদ্দিন জানান, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।