কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ ছিল আর্জেন্টিনার জন্য এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় লাতিন আমেরিকার দলটি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন পূরণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
তবে এই শিরোপা জয়ের গল্পে শুধু মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স বা দলের লড়াই নয়, রয়েছে একটি বিশেষ পরিসংখ্যানও। পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল পাঁচটি পেনাল্টি, যা বিশ্বকাপের একক আসরে কোনো দলের সর্বোচ্চ পেনাল্টি পাওয়ার রেকর্ড।
এর আগে একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ চারটি পেনাল্টি পাওয়ার রেকর্ড ছিল পর্তুগালের (১৯৬৬) এবং নেদারল্যান্ডসের (১৯৭৮)। কাতারে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার পাওয়া পাঁচটি পেনাল্টির সবকটিই নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে পাওয়া চারটি পেনাল্টি সফলভাবে জালে পাঠান তিনি। তবে গ্রুপ পর্বে পোল্যান্ডের বিপক্ষে একটি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন এই তারকা ফুটবলার।
বিশেষ করে নকআউট পর্বে পাওয়া পেনাল্টিগুলো আর্জেন্টিনার যাত্রাকে আরও সহজ করে তোলে। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে পাওয়া স্পট কিকগুলো ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনেক দলই একাধিকবার পেনাল্টির সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু কোনো দলই এর আগে একটি আসরে পাঁচবার পেনাল্টি আদায় করতে পারেনি। সেই কীর্তি গড়ে আর্জেন্টিনা নিজেদের নাম তুলেছে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ের বিশেষ পাতায়।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম কারণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগানোর দক্ষতা। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর বড় একটি অংশ এসেছিল পেনাল্টি থেকে।
তাই ২০২২ বিশ্বকাপের ইতিহাস স্মরণ করলে মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স, এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অবিশ্বাস্য সেভ কিংবা দলের সম্মিলিত লড়াইয়ের পাশাপাশি মনে রাখতে হবে আরেকটি অনন্য রেকর্ডও। পাঁচটি পেনাল্টি পেয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছিল আর্জেন্টিনা, যা তাদের বিশ্বজয়ের গল্পকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।