স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য গত এক বছর ধরে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন অ্যাবি। তার মতো অনেকেই এখন জেমিনি ও গ্রক-এর মতো এআই চ্যাটবটকে দৈনন্দিন সহচর হিসেবে দেখছেন, যা যেকোনো সময় প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকে।
অ্যাবির জন্য এআই ব্যবহারের সুবিধা ছিল সহজ ডাক্তারের কাছে সময় না পাওয়া বা ইন্টারনেটে অতিরিক্ত ভয়ংকর তথ্যের ভিড় এড়িয়ে তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ পরামর্শ পাওয়া। একবার ইউরিন ইনফেকশনের মতো উপসর্গ দেখা দিলে তিনি চ্যাটজিপিটির পরামর্শে ফার্মাসিস্টের কাছে যান এবং প্রয়োজনীয় ওষুধও পান, যা তার কাছে স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা ছিল।
তবে পরবর্তীতে একটি ঘটনায় বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠে। হাইকিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে পিঠে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে চ্যাটজিপিটি সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ আঘাতের আশঙ্কা জানিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। আতঙ্কিত হয়ে তিনি জরুরি বিভাগে যান, কিন্তু পরে দেখা যায় তার অবস্থা ততটা গুরুতর ছিল না এবং ব্যথা ধীরে ধীরে কমে আসে। এতে এআই-এর পরামর্শ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই স্বাস্থ্য পরামর্শে সহায়ক হলেও এটি সবসময় নির্ভুল নয়। ইংল্যান্ডের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা স্যার ক্রিস হুইটি সতর্ক করেছেন যে এআই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল তথ্য দিতে পারে, যা ব্যবহারকারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, পরিষ্কার ও সম্পূর্ণ তথ্য পেলে এআই প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে। তবে বাস্তব জীবনে রোগীরা সাধারণত অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন, যার কারণে সঠিকতা কমে যেতে পারে।
আরেকটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষ ও এআই একসাথে স্বাস্থ্য বিষয়ক কথোপকথন করলে সঠিক সিদ্ধান্তের হার নেমে প্রায় ৩৫ শতাংশে নেমে আসে, কারণ ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
OpenAI সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জানায়, তারা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে এআই উন্নত করছে। তবে তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে এআই কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসকের বিকল্প নয়, বরং তথ্য ও প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
অ্যাবি এখনো এআই ব্যবহার করেন, তবে তিনি আরও সতর্ক হয়েছেন। তার মতে, “সব তথ্যই এখন যাচাই করি, পুরোপুরি বিশ্বাস করি না।”
সব মিলিয়ে, এআই স্বাস্থ্য বিষয়ে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই চিকিৎসকের বিকল্প নয় এবং অন্ধভাবে নির্ভর করাও ঝুঁকিপূর্ণ।