বিশ্বকাপ ইতিহাসে অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচ রয়েছে। তবে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার লড়াইকে অনেক ফুটবল বিশ্লেষক সর্বকালের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করেন। স্কোরলাইন বলছে ১-০, কিন্তু সেই ম্যাচের গুরুত্ব এবং প্রভাব ছিল ফলাফলের চেয়েও অনেক বেশি।
মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত 1970 FIFA World Cup ছিল ফুটবলের এক নতুন যুগের সূচনা। প্রথমবারের মতো রঙিন টেলিভিশনে বিশ্বকাপ সম্প্রচার, আক্রমণাত্মক ফুটবলের উত্থান এবং পেলের নেতৃত্বে ব্রাজিলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টটিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা আসরে পরিণত করেছিল।
গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। England national football team এসেছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। তাদের দলে ছিলেন Bobby Moore, Bobby Charlton এবং Gordon Banks-এর মতো কিংবদন্তিরা।
অন্যদিকে Brazil national football team এসেছিল নিজেদের হারানো শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের মিশনে। কোচ Mario Zagallo-র অধীনে গড়ে ওঠা দলটিতে ছিলেন Pelé, Jairzinho, Tostão, Gérson এবং Rivelino।
১৯৭০ সালের ৭ জুন মেক্সিকোর Estadio Jalisco-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল ফুটবলের দুই ভিন্ন দর্শনের লড়াই। একদিকে ইউরোপীয় শৃঙ্খলা ও কৌশল, অন্যদিকে লাতিন আমেরিকান সৃজনশীলতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবল।
ম্যাচের সবচেয়ে বিখ্যাত মুহূর্ত আসে প্রথমার্ধে। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে উড়ে গিয়ে হেড করেন পেলে। বলটি প্রায় গোললাইন অতিক্রম করতে যাচ্ছিল, কিন্তু অবিশ্বাস্য এক সেভ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন গর্ডন বাঙ্কস। ফুটবল ইতিহাসে এই মুহূর্তটি আজও “দ্য সেভ অব দ্য সেঞ্চুরি” নামে পরিচিত।
প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও ম্যাচের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। অবশেষে ৫৯তম মিনিটে ব্রাজিল এগিয়ে যায়। বক্সের সামনে বল পেয়ে নিজে শট না নিয়ে অসাধারণ দূরদর্শিতা দেখান পেলে। ডান পাশে ফাঁকা জায়গায় থাকা জাইরজিনহোকে নিখুঁত পাস দেন তিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে জালে বল পাঠান জাইরজিনহো।
গোলটি ছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সৌন্দর্য, গতি এবং দলীয় সমন্বয়ের অনন্য উদাহরণ। ম্যাচজুড়ে পেলে ও ববি মুরের দ্বৈরথও দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। খেলা শেষে দুই কিংবদন্তির জার্সি বিনিময়ের দৃশ্য ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ছবিতে পরিণত হয়।
ব্রাজিলের এই জয় ছিল শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়; এটি ছিল বিশ্ব ফুটবলে তাদের পুনর্জাগরণের ঘোষণা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জন্য এটি ছিল ধীরে ধীরে আধিপত্য হারানোর ইঙ্গিত।
পরবর্তীতে ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। তবে সেই আসরের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর মধ্যে ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচ আজও বিশেষভাবে আলোচিত। কারণ এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না, বরং দুই যুগ, দুই দর্শন এবং দুই ফুটবল সংস্কৃতির ঐতিহাসিক সংঘর্ষ ছিল।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ১৯৭০ সালের সেই লড়াই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম অমর অধ্যায় হয়ে আছে। ফুটবলের সৌন্দর্য, কৌশল, প্রতিভা এবং ক্রীড়াসুলভ সম্মানের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে ম্যাচটি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।