লেবাননে চলমান সংঘাতের মধ্যে বুধবার সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ।
দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একদিনেই এত বড় প্রাণহানি সাম্প্রতিক সংঘাতে নজিরবিহীন। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিহতের সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয় এবং তা আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী বৈরুতে, যেখানে বহু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরপর বিস্ফোরণে আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এটি ছিল তাদের সমন্বিত বৃহত্তম হামলা। অল্প সময়ের মধ্যে বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।
হামলার পর উদ্ধারকাজে দেখা গেছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের বের করতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক আহতকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
একটি বিধ্বস্ত ভবনের ওপরের তলায় আটকা পড়া এক বৃদ্ধাকে ক্রেনের সাহায্যে নামিয়ে আনার দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তোলে।
এদিকে হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের একটি সীমান্তবর্তী এলাকায় রকেট হামলার দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পাল্টা প্রতিক্রিয়া চলবে।
সংঘাতের এই পর্যায়কে চলমান যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান এই হামলাকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, এত বড় মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।