ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু করেছিল ইসরাইল। শুরুতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অনেকেই সাহসী নেতা হিসেবে দেখলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানে হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ইরানের পাল্টা হামলা জোরালো হলে ইসরাইলের ভেতরে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের হতাশা আরও গভীর হয়।
এরই মধ্যে প্রায় ৪০ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলে ইসরাইলের অনেকেই বিস্মিত হন। কারণ, যুদ্ধ শুরু করলেও তা শেষ করার সিদ্ধান্তে তেল আবিবের সরাসরি ভূমিকা ছিল না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসরাইলের সাবেক এক আইনপ্রণেতা ও ব্যবসায়ী নেতা আইনবার বেজিক গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘ সংঘাতের পরও দেশটি উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন করতে পারেনি। বরং প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।
তার প্রশ্ন, এত ক্ষতির পরও কী অর্জন হলো। পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা যায়নি, ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি রয়ে গেছে, একই সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ শক্তিগুলোও সক্রিয় রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বলছেন, এই সংঘাত ইসরাইলের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করার বদলে বরং দুর্বল করেছে। নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সাবেক এক শীর্ষ ব্যক্তিত্বও একে নেতৃত্বের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই ছিল এবং ইসরাইল সেখানে বড় কোনো সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখতে পারেনি।
সব মিলিয়ে ইরান সংঘাতের পর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপে পড়েছেন নেতানিয়াহু। যাকে একসময় শক্তিশালী নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, এখন তার নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেক ইসরাইলি নাগরিক।